Saturday, 24 January 2015

Social New facebook Theme

New Facebook theme



  • As a free social platform, we recognize members for their likeness, image and content by sharing earned revenues.
  • Create content, interact with your community, and invite your friends and followers to join what is nw youor personal network.
  • As a content creator, you'll earn fair value for all the social things you normally do.

Tuesday, 20 January 2015

দুই নারী অফিসারকে ধর্ষণ করার হুমকি বিমান সিবিএ’র!

আন্দোলনে না যাওয়ায় সিবিএ নেতারা বিমানের দুই নারী অফিসারকে লাঞ্ছিত করেছে। ভুক্তভোগীরা হলেন জুনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার আকলিমা খানম ও একই বিভাগের ফাতেমা বেগম। বৃহস্পতিবার সকালে বিএফসিসি, মোটর ট্রান্সপোর্টসহ কয়েকটি শাখার সিবিএ সমর্থিত নেতা আনোয়ার, ফিরোজ, রফিক ও সবুজসহ ১০/১২ জনের একদল উশৃঙ্খল কর্মী বিমানের বলাকা ভবনের পঞ্চম তলার কমিউনিকেশন বিভাগের এই দুই নারী অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তারা টেনেহিঁচড়ে জোর করে দুই নারী অফিসারকে বলাকা ভবনের নীচ তলায় সিবিএ‘র ডাকা অবস্থান কর্মসূচীতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আকলিমা ও ফাতেমা না যাওয়ায় তারা তাদের কাপড় চোপড় খুলে রেপ (ধর্ষন) করারও হুমকি দেয়। বলে, ভদ্র ভাবে বললে শুনবে না। টেনেহিঁচড়ে কাপড় চোপড় খুলে নিয়ে আসতে হবে। এক সিবিএ নেতা আকলিমাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ওর কাপড় চোপড় খুলে রেপ কর। তাহলে শিক্ষা হবে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিমান জুড়ে তোলপাড় ওঠে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে বর্বরোচিত ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিমান এমডি মোসাদ্দেক আহম্মেদ তদন্তের বিষয়টি অনুমোদন করেছেন বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
আকলিমা খানম বলেন, টানাহ্যাচড়ার এক পর্যায়ে তিনি ভয় দৌড়ে পাশের রুমের গিয়ে আশ্রয় নেন এবং ভেতর থেকে ওই রুমের দরজা বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দলবলসহ আরো বেশ কয়েকজন সিবিএ কর্মী ওই রুমের সামনে অবস্থান নেয়। তারা লাথি মেরে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ফেলারও চেষ্টা চালায়। বাধ্য হয়ে আকলিমা দরজা খুলেন। এরপর তারা ট্যানে হেচড়ে আকলিমাকে আবার মিছিলে নেয়ার চেষ্টা করে।
আকলিমা জানান, ভয়ে তিনি বাসায় ফোন করার কথা বলে সিকিউরিটি বিভাগের ম্যানেজার ইদ্রিসকে বিষয়টি জানান এবং আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এরপর মেজবাহ নামে সিকিউরিটি বিভাগের এক কর্মী পুলিশসহ আকলিমা এবং ফাতেমাকে রক্ষা করতে পঞ্চম তলায় আসেন। এই খবর শুনে সিবিএ নেতরা আরো ক্ষিপ্ত হয়। এরপর অবস্থান কর্মসূচীতে অংশ নেয়া আরো ১০/১২ জন কর্মী পঞ্চম তলায় গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে আকলিমা ও ফাতেমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
আকলিমা কাঁদতে কাঁদতে জানান, বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং বিভাগের (বিএফসিসি) সিবিএ নেতা আনোয়ার চিৎকার করে অন্য কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলে, আন্দোলনে না গেলে দুইজনকে রুমের দরজা বন্ধ করে কাপড় চোপড় খুলে রেপ (ধর্ষণ) কর। দ্যাখ কোন বাপ এসে ওদের রক্ষা করে। এসময় তারা বিমান বোর্ড চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিনকেও গালিগালাজ করেন। এসময় কয়েকজন সিবিএ নেতা আকলিমাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়।
তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ওড়না ধরে টানাটানিও করে কেউ কেউ। এই অবস্থায় পুরো বলাকা জুড়ে আতঙ্ক নেমে আসে। ভয়ে অন্য নারী কর্মীরা তাদের দরজা বন্ধ কওে লুকিয়ে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এই ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এভাবে একজন কলিগ অন্য কলিগকে কিভাবে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতে পারে এমনকি ধর্ষণ করার হুমকি দিতে পারে এটা বিমানের ইতিহাসে নজির বিহীন।
আন্দোলনের নামে এটি অরাজকতা। তারা অবিলম্বে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিমান থেকে বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবি জানান। এমনকি অ্যাটেম টু রেপের (ধর্ষন) মামলায় আসামি করারও দাবি জানান। বিষয়টি আকলিমা লিখিতভাবে বিমান ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছেন বলেও  জানান।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় তিনি এখন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। অফিস থেকে আসার পর তিনি দরজা বন্ধ করে সারাক্ষণ শুধু কেঁদেছেন। লজ্জায় তিনি বাসার কারো সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে পারছেন না। প্রয়োজনে তিনি থানায় মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান। বিমান সূত্রে জানা গেছে, আকলিমা বিমানের সিবিএ (১৯৭০) এর সঙ্গে জড়িত। একারণে তিনি বর্তমান সিবিএ নেতাদের ডাকা আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেননি।
জানা গেছে, গত বুধবার আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকলীগ সভাপতি ও সিবিএ নেতা মসিকুর ও সাধারণ সম্পাদক মন্তাছারের নেতৃত্বে সিবিএ নেতারা বিমানের প্রতিটি ফ্লোরে ফ্লোরে গিয়ে বিমানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্দোলন চলাকালে কাজ না করার নির্দেশ দেন। এ সময় তার সঙ্গে শ্রমিকলীগ নেত্রী ফারহা মাহবুব এবং বেনুও ছিলেন। তারা মসিকুরকে আকলিমা ও ফাতেমার বিরুদ্ধে নালিশ দেন।
বিমানের একটি সূত্র জানায়, ওইদিন মসিকুরের সঙ্গে এনিয়ে আকলিমার সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটিও হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এর সূত্র ধরে সিবিএ নেতারা আকলিমার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর খেসারত হিসাবে বৃহস্পতিবার তারা এই ঘটনা ঘটান। আকলিমা বলেন, আমি তাদের অনেক অনুনয়-বিনুনয় করে বলছি, কিন্তু তারা প্রকাশ্যে আমার সঙ্গে যে আচরণ করেছে সেটা বিমানের বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। অন্যথা এধরনের সিবিএ নেতারা বিমানের অন্য মেয়েদের লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করবে না।

আবারও বিমান পর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন এয়ার মার্শাল জামাল

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিমান পর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) জামাল উদ্দিন আহম্মেদ। সংবাদ মাধ্যমগুলোতে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাঁর বিকল্প নেই বলে গতকাল এক চিঠিতে জানিয়েছে।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত ফাইলটি বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
এদিকে আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিষদের অপর বোর্ড সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ, বিমান সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, সেনা ও বিমান বাহিনীর দুজন সদস্য, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান, বিচারপতি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ও এসএম জাকারিয়া।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এফবিসিসিআই থেকে একজন সদস্য নিয়োগ দেয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বিমানের সাবেক বোর্ড মেম্বার আবুল কাশেম আহমদকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে।
নতুন এ পর্ষদকে এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর বিমান পর্ষদের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা অনুষ্ঠানের আগেই প্রচলিত বিধান অনুযায়ী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং ১০ জন সদস্য পদত্যাগ করেন।

বিমানের জেদ্দা স্টেশনে ১৩৩ কোটি টাকা দুর্নীতি লোপাট

বাংলাদেশ বিমানের জেদ্দা অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার ও জিএসএ (জেনারেল সেল্স এজেন্ট) এলাফ এভিয়েশনের বিরুদ্ধে ১৩৩ কোটি টাকা লোপাট ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্টেশন ম্যানেজারের নাম আবু তাহের।
বিমানের প্রধান কার্যালয়ের একজন পরিচালক ও একজন জেনারেল ম্যানেজারের যোগসাজসে পুরো টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংস্থার অভ্যন্তরিন তদন্তে প্রাথমিকভাবে এই অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে বলে বিমান সুত্রে জানাগেছে। বিমানের পরিচালক প্রশাসন রাজপতি সরকার বলেন, জেদ্দা অফিস নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ম্যানেজমেন্ট তদন্ত করবে। এর আগে বিমানের একজন জেনারেল ম্যানেজার আমিনুলের (সাবেক ভুমি মন্ত্রীর জামাতা) বিরুদ্ধে এধরনের মোটা অংকের টাকা দুর্নীতির অভিযোগে চার্জশীট গঠন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকার দুনীতির তদন্ত চলছে। পরিচালক প্রশাসন রাজপতি সরকার জানান, আমিনুলের বিরুদ্ধে তদন্ত চুড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে বিমানের সেক্টর ভিত্তিক হাজার হাজার কোটি টাকা দুনীতির অভিযোগ থাকলেও ব্যক্তি কেন্দ্রীক এধরনের বড় দুর্নীতির সংখ্যা হাতে গোনা। দুটি ঘটনায় বিমান জুড়ে তোলপাড় উঠেছে। ইতোমধ্যে বিমানের জেদ্দাস্থ কান্টি ম্যানেজার আবু তাহেরকে জেদ্দা স্টেশন থেকে সরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিমান।
পাশাপাশি ব্যাপক দুর্নীতি ও আবু তাহেরকে সহায়তার অভিযোগে জিএসএ এলাফ এভিয়েশনের সঙ্গে বিমানের চুক্তি বাতিলেরও চিন্তাভাবনা করছে। এছাড়া প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট জেনারেল ম্যানেজারকেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হবে। বিমানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, জিএসএ এলাফের নিয়োগ নিয়েও কোটি কোটি টাকার আন্ডারহ্যান্ড ডিলিংয়ের অভিযোগ ছিল। কিন্তু তৎকালীণ দুই বোর্ড মেম্বার, বিমানের সাবেক এমডি কেভিন স্টিল ও দুই প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তার যোগসাজস থাকায় এলাফ এভিয়েশনকে তখন জিএসএ থেকে বাদ দেয়া সম্ভব হয়নি।
বিমান সুত্র জানায় জেদ্দার বর্তমান কান্ট্রি ম্যানেজার আবু তাহের কোন ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। অভিযোগ নামে বেনামে ভুয়া বিল ভাউচার করে তিনি গত ২ বছরে ১শ থেকে দেড়শ কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছেন। এছাড়া নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত ব্যাগেজ বহন করে, বয়স্ক টিকিট ইস্যু করে অপ্রাপ্ত যাত্রীদের বয়স্ক দেখিয়ে, মার্কিন ডলারের পরিবর্তে সৌদি রিয়ালে বিক্রয়কৃত অর্থ স্থানান্তর, বিলম্বিত ফ্লাইটের যাত্রীদের গ্রাউন্ড ফিডিং প্রদান করে, ক্রুদের হোটেল বিলে অনিয়ম করে, দায়িত্বপ্রাপ্ত হ্যান্ডেলিং এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজস করে ব্যাগজ হারানোর কথা বলে যাত্রীদের ভুয়া ক্ষতিপুরণ দিয়ে, ডিপোর্টি প্যাসেঞ্জারদের (গলাকাটা পাসপোর্টে আসা) ভাড়া, অস্থায়ী ও ক্যাজুয়াল ক্রুদের সিঙ্গেল রুম বরাদ্ধ দিয়ে বছরে কোটি কোটি টাকার দুনীতি করছে।
এছাড়া আবু তাহেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ম্যানেজমেন্টের অনুমোদন ছাড়াই সৌদি আরবে চিকিৎসা না করিয়ে ব্যাংককে গিয়ে চিকিৎসার নামে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী এধরনের ঘটনায় বিমানের চিফ মেডিক্যাল অফিসারের ছাড়পত্র নিতে হয়। কিন্তু আবু তাহের সেটা না করে এমনকি ছুটি না নিয়ে ব্যাংকক গিয়ে ২ মাসের বেশি সময় অবস্থান করেছেন। এই অভিযোগে বিমান ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনা পর্যদ তার বিল আটকে দিলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে জেদ্দাস্থ এলাফ এভিয়েশনের কাছ থেকে পুরো টাকা নিয়ে নেন।
অভিযোগ আছে জিএসএ এলাফকে বিভিন্ন অবৈধ সুযোগ দিয়ে আবু তাহের প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকা মাসোহার নিচ্ছেন। এলাফের সঙ্গে চুক্তিকালীণ সময়ে সিকিউরিটি মানি হিসাবে বিমানের ফান্ডে ১৫ মিলিয়ন রিয়াল অর্থাৎ ৩০ কোটি টাকা জামানত রাখা হয়েছিল। বিমান এই টাকা ব্যাংকে এফডিআর করে মাসে গড়ে ৩০ লাখ টাকা আয় করতো। কিন্তু আবু তাহের বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই গোপনে সাবেক এমডির সঙ্গে যোগসাজসে জামানতের টাকা ১৫ লাখ থেকে ৫ লাখ কমিয়ে দেয়। অভিযোগ এই খাতে আবু তাহের এলাফের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা পেয়েছে। এই ঘটনায় বছরে বিমান প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
এই কাজটি করতে আবু তাহের এলাফের পক্ষে যে সব যুক্তি ও তথ্য তুলে ধরেছিল সেগুলোর অধিকাংশই ছিল ভুয়া ও মিথ্যা। আবু তাহেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তিনি ২০১৪ সালে হজ শেষে মক্কা ও মদিনাতে হাজীদের মালামাল সংগ্রহের জন্য একটি কোম্পানীকে দায়িত্ব দেন। ২০১৩ সালে প্রতিটি লাগেজের ওজন ধরা হয়েছিল ৩০ কেজি। কিন্তু আবু তাহের এবার সেই ওজর বাড়িয়ে ৪০ কেজি করে। এখাতে বিমান প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে।
অভিযোগ গত বছর রাস্ট্রপতি আবদুল হামিদ সৌদি সফর কালে জেদ্দা বিমান বন্দরে আবু তাহেরকে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল। এছাড়া ফ্লাইট ডিলে‘র তথ্য অগ্রিম না জানানোর কারণে একটি বিশেষ বাহিনীর প্রধান জেদ্দা বিমান বন্দরে এসে ৫ ঘন্টার উপরে বসা ছিলেন। এই সময় আবু তাহেরকে টেলিফোন করেও কোথাও পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায়ও আবু তাহেরকে শোকজ করা হয়। জানাগেছে আবু তাহের এতটাই প্রভাবশালী তার বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ থাকলেও তাকে জেদ্দা স্টেশন থেকে দীর্ঘদিন ধরে সরানো হচ্ছে না।
একই অভিযোগ আছে দুবাইয়ের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ এহসান হোসেন কাজী, নিউইয়র্কের কান্ট্রি ম্যানেজার আশরাফ হোসেন, নেপালের কান্ট্রি ম্যানেজার মাসুদ হোসেনের বিরুদ্ধে। দুবাইয়ের কান্ট্রি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি সেখানে বিমানের কাজ না করে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করছেন। তার বরুদ্ধে কমপক্ষে ২শ কোটি টাকার বেশি দুনীতির অভিযোগ আছে। কিন্তু এসব অভিযোগের কোন তদন্ত করছে না বিমান। অপর দিকে ঢাকা নিউইয়র্কের কোন ফ্লাইট না থাকলেও গত ৫ বছর ধরে আশরাফ হোসেনকে নিউইয়র্কের কান্ট্রি ম্যানেজার করে বসিয়ে বসিয়ে বেতন ভাতা দিয়ে আসছে বিমান।
বিমানের মার্কেটিং বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, অদক্ষ, অযোগ্য ও দুনীতিগ্রস্থ জেনারেল সেল্স এজেন্টের (জিএসএ) কারণে গত ৫ বছরে শুধু জেদ্দা ও লন্ডনের দুটি রুট চালিয়ে বিমান লোকসান গুনছে ৯শ কোটি টাকার বেশি। জেদ্দার জিএসএস‘র বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা বিমানের নামে যাত্রী সংগ্রহ করে শেষ মুহুর্তে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সেসব যাত্রী অন্য এয়ারলাইন্সের কাছে বিক্রি করে দিতো। এতে আগে প্রায়শ বিমানের জেদ্দা-ঢাকার ফ্লাইটগুলোকে খালি আসতো। বিমানের শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য (সাবেক মার্কেটিং কর্মকর্তা) ও মার্কেটিং বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতি মাসে ওই টাকার ভাগ পেতো বলে এনিয়ে কোন টু শব্দ হতো না।
উপরোন্ত মোটা অংকের টাকা নিয়ে গোপনে প্রতি বছর ওই জিএসএ‘র চুক্তি নবায়ন করা হয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী ২০১২-১৩ সালে বিমান ঢাকা-লন্ডন-রোম-মিলানসহ পুরো ইউরোপ রুটে লোকসান দিয়েছে ২৩ হাজার ২২৩ লাখ টাকা অর্থাৎ ২৩২ কোটি টাকা। অপর দিকে ঢাকা-জেদ্দা-রিয়াদসহ পুরো মধ্য প্রাচ্যে ফ্লাইট চালিয়ে বিমানকে লোকসান গুনতে হয়েছে ৩৯৪ কোটি টাকা। তবে মার্কেটিং সুত্রে জানাগেছে গত ২/৩ মাস ধরে বিমানের লন্ডন ও জেদ্দা রুটে লাভ হচ্ছে। অভিযোগ রযেছে জেদ্দার এলাফ এভিয়েশনের সঙ্গে বিমানের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও প্রায় এক বছর কোন ধরনের চুক্তি ছাড়াই তারা বেআইনী ভাবে টিকিট বিক্রি করেছে। মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক শাহনেওয়াজ জানান, বিভিণœ অভিযোগে লন্ডনের কার্গো জিএসএ আনা এভিয়েশনকে বাদ দিলেও জেদ্দার এলাফ এভিয়েশনকে বাদ দেয়া সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে জানাগেছে জেদ্দার বর্তমান জিএসএ এলাফের সঙ্গে অসংখ্য এয়ারলাইন্সের ব্যবসা রয়েছে। যার কারণে তারা বিমানের টিকিট বিক্রির প্রতি তেমন মনোযোগী নয়। এছাড়া প্রায়‘শ তারা বিমানের পরিবর্তে অন্য এয়ালাইন্সকে বেশি যাত্রী দিচ্ছে। সুত্র জানায় জেদ্দার বর্তমান জিএসএ‘র অধিকাংশ স্টাফ হচ্ছে পাকিস্তানের নাগরিক। এর আগে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই জিএসএ‘র কর্মকান্ডগুলো কঠোর মনিটরিং করার জন্য বিমানকে রিপোর্ট দিয়েছিল। কিন্তু বিমানের মার্কেটিং বিভাগ এ বিষয়ে কোন পাত্তা দেয়নি। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এয়ারলাইন্স ব্যবসায় জিএসএ অপারেটররা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। ভুলের কারণে কোন ধরনের অপরাধী টিকিট কিনে বিমানে অবতরণ করে থাকেন তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে।
এ প্রসঙ্গে বিমান পরিচালণা পর্যদ চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, বলেন, তিনি এখনো অফিসিয়ালী বিমানের চেয়ারম্যান নন। কাজেই এই মুহুর্তে কিছু বলতে পারবেন না। তবে চেয়ারম্যান থাকাকালীণ জিএসএ নিয়োগের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে বলেন, আগে বছরের পর বছর বিমানের জিএসএ অপারেটরদের চুক্তি শেষে শুধু নবায়ন করা হতো। কোন টেন্ডার আহবান করা হতো না। তার নির্দেশনার পর এখন মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে। এতে বিমান বড় ধরনের লাভবান হচ্ছে। দুনীতি জেদ্দার স্টেশন ম্যানেজার আবু তাহেরে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খন্ডন করা হযেছে।


Friday, 2 January 2015